কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি চাকরির নতুন সুযোগ
শিক্ষা মন্ত্রণালয় কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদধারীদের জন্য সহকারী মৌলভী ও ইবতেদায়ি কারি পদে নিয়োগের পথ খুলে দিয়েছে। এই নতুন নীতিমালায় বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং শিক্ষাজীবনে সর্বোচ্চ একটি তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি মাদ্রাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ সংশোধন করে কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি চাকরির নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন থেকে দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) উত্তীর্ণ আলেমরা সহকারী মৌলভী (কারি) এবং ইবতেদায়ি কারি পদে আবেদন করতে পারবেন।
২৩ জুন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দাউদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই নতুন যোগ্যতার কথা জানানো হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীনে দাওরায়ে হাদিস সনদধারীরা এই পদগুলোতে আবেদন করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড হতে ইলমে কিরাত বা হিফজুল কোরআন সনদ থাকা বাধ্যতামূলক।
নিয়োগের শর্তাবলীতে বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারিত হয়েছে। তবে সমপদের ইনডেক্সধারীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। শিক্ষাগত মানের ক্ষেত্রে পুরো শিক্ষা জীবনে মাত্র একটি ৩য় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে।
বেতন স্কেলের মধ্যে সহকারী মৌলভী (কারি) পদে ১১তম গ্রেডে ১২,৫০০-৩০,২৩০ টাকা এবং আলিম মুজাওয়িদসহ ফাজিল সনদধারীদের জন্য ১০ম গ্রেডে ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। ইবতেদায়ি কারি পদের জন্য ১৬তম গ্রেডে ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা বেতন স্কেল প্রযোজ্য।
এই নতুন নীতিমালা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এটি কওমি আলেমদের মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও প্রশস্ত করবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।