চীন থেকে জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চলছে, শিগগিরই চুক্তির সম্ভাবনা
বাংলাদেশ সরকার চীন থেকে ২০টি জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে এই প্রতিরক্ষা কেনাকাই নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে এই সফরে কোনো চুক্তি হবে না বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য চীন থেকে জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং বর্তমান বিএনপি সরকারও এই প্রতিরক্ষা নীতি অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চীনে গেছেন এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে জে-১০ সিই কেনার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সফরে কোনো চুক্তি হবে না, শুধু আলোচনা হবে এবং খুব শিগগিরই একটি চুক্তি সই হতে পারে। গত বছরের মার্চে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের সময়ও এই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। এসব যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী 'ফোর্সেস গোল ২০৩০'-এর অংশ হিসেবে এই কেনাকাই করা হচ্ছে। বর্তমান বহরে থাকা পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান পরিবর্তন করতে এই আধুনিক ফাইটার জেটগুলো প্রয়োজন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমানে যেসব যুদ্ধবিমান রয়েছে সেগুলো বেশ পুরোনো মডেলের এবং নতুন যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন আছে। জে-১০ সিই চীনের বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত জে-১০সি-এর রপ্তানি সংস্করণ। গত বছর ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে পাকিস্তান ফ্রান্সের তৈরি ভারতের একাধিক রাফায়েল যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছিল। এরপরেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে জে-১০ সিই। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলেও যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা ছিল। ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয় এবং সেসময় ফ্রান্সের রাফাল, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইউরো ফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ থেকে কোন যুদ্ধবিমান কেনা হবে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো ঢাকায় এসে রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু আর্থিক সংকটে এসব আলোচনা এগোয়নি।