শীতলক্ষ্যার ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে কাপাসিয়া থানা
নরসিংদীর কাপাসিয়া থানা কমপ্লেক্স এখন শীতলক্ষ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের হুমকিতে। নদীতে 'ইউ-টার্ন' তৈরি হওয়ায় স্রোত সরাসরি থানার দিকে আঘাত করছে। বেতার টাওয়ার, মসজিদ, আনসার ব্যারাকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধসে পড়ার ঝুঁকিতে।
কাপাসিয়া উপজেলার ৪ লক্ষ মানুষের নিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী খ্যাত কাপাসিয়া থানা কমপ্লেক্স এখন বহমান শীতলক্ষ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং তীব্র স্রোতের কারণে থানার সীমানা প্রাচীরসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো যেকোনো সময় নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে থানার ২০০ ফুট উচ্চতার বেতার টাওয়ার, পুলিশ জামে মসজিদ, সেমিপাকা আনসার ব্যারাক এবং অফিসার্স ব্যারাক ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর ডান তীরের প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় দীর্ঘদিনের ভাঙনের ফলে একটি বড় 'ইউ-টার্ন' বা বাঁক তৈরি হয়েছে। এর ফলে জোয়ারের পানি ও তীব্র স্রোত সরাসরি থানা সংলগ্ন নদী পাড়ে আঘাত হানছে। সীমানা প্রাচীরের নিচের মাটি দ্রুত সরে যাচ্ছে। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে এবং মাটির গভীরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি ওসির বাসভবন ও ব্যারাকের নিচের মাটি বিপজ্জনকভাবে দেবে যাওয়ায় ভবনগুলো যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। শুধু থানার ভবনই নয়, পাশেই অবস্থিত একটি মন্দিরের বিশাল এলাকা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কাপাসিয়া থানা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে স্থায়ী প্রতিকার চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ জানান, থানা কমপ্লেক্সটি রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে শীতলক্ষ্যা নদীর ডান তীরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। বিষয়টি নিয়ে নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে বিলম্ব হলে কেবল কয়েক কোটি টাকার সরকারি সম্পদই নষ্ট হবে না, বরং একটি পুরো উপজেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।