সব সংবাদ
অর্থনীতি

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুবিধা চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআরসিটিএ) চালুর অনুমোদন দিয়েছে। এই হিসাবের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে টাকা জমা রাখা, বিনিয়োগ করা, মুনাফা অর্জন এবং প্রয়োজনে বিদেশে অর্থ পাঠানোর সুবিধা পাবেন।

২৩ জুন ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এই সার্কুলার দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এনআরসিটিএ হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি রূপান্তরযোগ্য টাকাভিত্তিক হিসাব, যা দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে খোলা যাবে। এই হিসাব সঞ্চয়ী, চলতি বা মেয়াদি আমানত (এফডিআর) হিসাব হিসেবে পরিচালনা করা যাবে। তবে হিসাব খোলার জন্য অর্থ অবশ্যই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স হতে হবে।

এই হিসাবে জমাকৃত অর্থের মূলধন ও অর্জিত সুদ বা মুনাফা সম্পূর্ণভাবে বিদেশে পাঠানো যাবে (ফ্রি রিপ্যাট্রিয়েবল)। এছাড়া স্থানীয়ভাবে বৈধ স্থানীয় ব্যয় নির্বাহ, অন্য এনআরসিটিএ বা নন-রেসিডেন্ট টাকা অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রূপান্তর, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং পোর্টফোলিও বিনিয়োগের জন্য নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে।

এনআরসিটিএ থেকে সংগৃহীত আমানত ব্যবহার করে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলো বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের টাইপ-এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে টাকাভিত্তিক ঋণ দিতে পারবে। তবে এই ঋণ কেবল বেতন-ভাতা, মজুরি এবং ইউটিলিটি বিলসহ চলতি ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা যাবে এবং পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে।

এই হিসাবে জমাকৃত অর্থের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ডোমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিট প্রবাসী বাংলাদেশি বা তাদের মনোনীত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানিকে ঋণ দিতে পারবে। এই ঋণ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে, দেশে ফেরত অযোগ্য প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে এবং নিজস্ব ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনায় ব্যবহার করা যাবে। তবে কৃষি, বাগানভিত্তিক কার্যক্রম, পুনঃঋণদান এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, হিসাব খোলা ও পরিচালনায় বিদ্যমান কেওয়াইসি, এএমএল/সিএফটি, কর আইন এবং নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল সংক্রান্ত বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে অনলাইন ও ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এনআরসিটিএ খোলার সুবিধা চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা আরও বাড়তে পারে এবং রেমিট্যান্সকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগে রূপান্তরের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনমুখী বিনিয়োগেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সার্কুলারটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।