ভারতে মুসলিম শিশুকে জোর করে পাকিস্তানজিন্দাবাদ বলানোর ষড়যন্ত্র, গ্রেফতার ২ হিন্দু যুবক
উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলায় মহররমের মিছিলে এক মুসলিম শিশুকে জোর করে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়ানোর সাজানো ঘটনা ছড়িয়ে দাঙ্গা বাঁধানোর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে পুলিশ। ১২ বছরের ওই শিশুকে দিয়ে স্লোগান দেওয়ানোর ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ তদন্ত করে দুই হিন্দু যুবককে গ্রেফতার করেছে।
উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলার হাফিজগঞ্জ থানা এলাকার খাইখেড়া গ্রামে একটি বড়সড় সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, মহররমের তাজিয়া মিছিলের মাঝে এক নাবালক 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' স্লোগান দিচ্ছে। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া প্রায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়ার লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অবিলম্বে তদন্তে নামে বরেলি জেলা পুলিশ। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। কিন্তু মিছিলে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ।
আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত করতেই আসল সত্যটি সামনে আসে। পুলিশ জানতে পারে, মহররমের মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো দেশবিরোধী স্লোগান দেয়নি। বরং স্থানীয় দুই যুবক ওই ১২ বছরের নাবালককে ভুল বুঝিয়ে বা জোর করে এই স্লোগান দিতে বাধ্য করে এবং সুপরিকল্পিতভাবে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়।
এই জঘন্য ষড়যন্ত্রের হদিস মেলার পরপরই পুলিশ যোগেন্দ্র পাল এবং ভুবনেশ কুমার নামের দুই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে। ৩০-এর কোঠায় বয়স এই দুই যুবকই পুরো ঘটনার মূল চক্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ। এলাকায় বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বরেলির পুলিশ সুপার (উত্তর) মুকেশ চন্দ্র মিশ্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'প্রাথমিক তদন্তে এটি পরিষ্কার যে ভিডিওটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।'
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার শিকার ওই ১২ বছরের শিশুর আইনি জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এই ভিডিওটি প্রথম কারা এবং কোন কোন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ থেকে ছড়ানো হয়েছিল, তার আইটি সেল মারফত সন্ধান চালানো হচ্ছে।