তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেল, জলকপাট খুলে দিল কর্তৃপক্ষ
উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নীলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তিস্তার নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। মঙ্গলবার বিকালে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, বেলা ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে, সকাল ৯টায় ১০ সেন্টিমিটার নিচে এবং দুপুর ১২টায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এরপর পানি বাড়তে শুরু করে এবং বিকাল ৩টায় বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায়। পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে। উজানের ঢলে এভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তার নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সোমবার বেলা ১২টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫১ দশমিক ৭৬ মিটার যা বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। বিকাল ৩টা পর্যন্ত এই অবস্থা অপরিবর্তিত ছিল। এরপর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় ৫১ দশমিক ৯৮ মিটারে পৌঁছায়। রাত ৯টায় আরও বেড়ে ৫২ দশমিক ০৫ মিটার হয়।
ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের দোমোহনী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের কাছে মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে।
তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গঙ্গাচড়া, মহিপুর ও কুড়িগ্রামের চর ও নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিস্তার পানি হু-হু করে বাড়ছে, প্রচণ্ড ঘোলা পানি আসছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন তারা। নৌকা চালানো বন্ধ রাখা হয়েছে। এবার আমন ধান চাষেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মানুষের জানমাল রক্ষায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে।