সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের নতুন শঙ্কা! নাসার সতর্কবার্তা

নাসা সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে 'সুপার এল নিনো' শুরু হয়েছে। স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে, যা ১৯৯৭ সালের ভয়াবহ এল নিনো ঘটনার মতো শক্তিশালী প্রভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম, খরা ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিম ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ চলাকালীন নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। তাদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে এখন 'সুপার এল নিনো' পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত সেন্টিনেল-৬ মাইকেল ফ্রেইলিচ স্যাটেলাইট ৮ জুন নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা শনাক্ত করে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে নাসা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে শক্তিশালী এল নিনো শুরু হয়েছে।

নাসার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সমুদ্রের পানি গরম হলে তা প্রসারিত হয়, ফলে পানির স্তর বৃদ্ধি পায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সমুদ্রের তাপমাত্রা ও জলবায়ুর পরিবর্তন বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যা নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। যখন এটি শক্তিশালী আকার ধারণ করে, তখন তাকে 'সুপার এল নিনো' বলা হয়।

নাসা সতর্ক করে বলেছে, এবারের সুপার এল নিনোর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলেই তীব্র গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এই অবস্থার কারণে উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল, ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ার বড় অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে।

সেন্টিনেল-৬ প্রকল্পের বিজ্ঞানী ডা. সেভেরিন ফুরনিয়ে বলেন, ১৯৯৭ সালের বড় এল নিনো ঘটনার সঙ্গে চলতি বছরের ৮ জুনের পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের পরিস্থিতি অনেকটাই মিল রয়েছে। ১৯৯৭ সালের সেই এল নিনো ছিল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী জলবায়ু পরিস্থিতি। এবারকার পরিস্থিতিও একই ধরনের শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুপার এল নিনো শুধু তাপমাত্রাই নয়, বৃষ্টিপাতের ধরনও বদলে দেয়। এর প্রভাবে কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে, যেমন—দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল। অন্যদিকে মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। উনিশ শতকের কিছু ঘটনায় ভারত, চীন ও ব্রাজিলে দুর্ভিক্ষে কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।