সব সংবাদ
জাতীয়

সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে চার নতুন সাক্ষীর জবানবন্দি

ঢাকার আদালতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। মোট ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে মঙ্গলবার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চারজন নতুন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এই চার সাক্ষী হলেন—নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী সোহেল মিয়া, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সাব-রেজিস্ট্রার রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস এবং দুদকের উপ-পরিচালক সিরাজুল হক। দুদকের কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, এই মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বেনজীর তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিলেও তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা পাওয়া গেছে এবং ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৮ মার্চ আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং ৩ মে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। এই মামলায় প্রথম সাক্ষী হাফিজুল ইসলাম ১৩ মে এবং চারজন সাক্ষী ২০ মে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সম্প্রতি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারকে এই গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে।