বাংলার জয়যাত্রা অবশেষে মুক্ত, সাড়ে তিন মাস আটকে থাকার পর হরমুজ প্রণালি পার
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কারণে সাড়ে তিন মাস হরমুজ প্রণালিতে আটকে ছিল। অবশেষে ২২ জুন রাতে জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস ধরে পারস্য উপসাগর এলাকায় আটকে থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল।
সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত তিনটার দিকে জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। বর্তমানে জ্বালানি গ্রহণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে জাহাজটি। জাহাজে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু রয়েছেন এবং সবাই সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।
১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটি কুয়েতে যাওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিএসসি সেটিকে সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া হয়, কিন্তু হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজটি বন্দরে আটকে পড়ে।
এরপর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ অতিক্রমের সময় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। পরে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়।
সর্বশেষ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে জাহাজটি অবশেষে হরমুজ প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়েছে। জাহাজটি ২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার একটি বাল্ক ক্যারিয়ার।