যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ডলারে তেল বিক্রির অনুমতি দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল
ইরানকে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মার্কিন ডলারে তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান পারমাণবিক আলোচনায় নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে।
ইরানকে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মার্কিন ডলারে তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছেও তেল বিক্রি করতে পারবে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও উত্তেজনার পর এটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শকদের (আইএইএ) দেশটিতে পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছেন। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এটি তেহরানের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে চলমান আলোচনায় অগ্রগতির আভাস পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমে আসার সম্ভাবনাই মূলত এই মূল্যপতনের অন্যতম কারণ।
এদিকে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান আলফাবেট। সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, গুগল ডিপমাইন্ডের গুরুত্বপূর্ণ গবেষক জন জাম্পার প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে আরেক খ্যাতনামা এআই গবেষক নোয়াম শেজারও গুগল ছেড়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দেন।
অন্যদিকে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারদরও টানা তৃতীয় দিনের মতো নিম্নমুখী রয়েছে। সোমবার কোম্পানিটির শেয়ার ১৬ শতাংশ কমেছে। এর ফলে ১৬ জুনের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৩ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের নতুন মোড় শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগ বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।