সব সংবাদ
জাতীয়

তানোরে ১১ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

রাজশাহীর তানোরায় কাশিম বাজার-বায়া বাজার সড়কের প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১১ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসময় বিলম্ব ও মান নিয়ে এলাকাবাসীর অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে।

রাজশাহীর তানোরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে কাশিম বাজার-বায়া বাজার সড়কের প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার সংস্কার কাজে ধীরগতি ও জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈকত এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বিত হওয়ায় শুরুতে ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কাজের অগ্রগতি ও নির্মাণমান দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। কালীগঞ্জ হাটে আরসিসি ঢালাইয়ের যতটুকু রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে সেটাও সিডিউল অনুযায়ী হয়নি। আবার ছিটেফোঁটা বৃষ্টির মধ্যে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। সরেজমিন তদন্তে চাঁন্দুড়িয়া এলাকার যুবক রবিউল ইসলাম বলেন, সড়কটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খুবই খারাপ ছিল। এখন যেসংস্কার কাজ হচ্ছে, তা বেশ ভালো মানের মনে হচ্ছে না। কাজ শেষ হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হবে, কিন্তু যেভাবে কাজ হচ্ছে তাতে রাস্তার মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকার শিক্ষক আলমগীর বলেন, কাজে দীর্ঘসুত্রতা ও নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারে প্রায় ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, কিন্তু কাজের যে মান তাতে অর্ধেক টাকাও ব্যয় করা হয়নি। রাস্তার বেডে ও এজিংয়ে পুরাতন ইট-খোয়াসহ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈকত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী টিজার নানা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলজিইডির নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী শতভাগ সঠিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। কাজ কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি। ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেয়, ফলে পাথর ও বিটুমিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তবে এখন দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসায় দ্রুত কাজ শেষ করার আশা করছি। তানোর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নুরুন্নাহার বলেন, তারা সব প্রকল্পই গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছেন এবং কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। রাজশাহী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, সড়কটির নির্মাণকাজ আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং তাদের প্রকৌশলীরা নিয়মিত কাজ তদারকি করছেন।