ফাইভ আইজের সতর্কতা: আগামী কয়েক মাসে সাইবার নিরাপত্তায় বড় হুমকি এআই
পাঁচ দেশের গোয়েন্দা জোট ফাইভ আইজ সতর্ক করেছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলো সাইবার হামলার সক্ষমতাকে এমনভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা বর্তমান শিল্প খাতের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত ফাইভ আইজ জোট সোমবার (২২ জুন) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বাধুনিক এআই মডেলগুলো আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় ধরনের সাইবার সক্ষমতাকে মৌলিকভাবে বদলে দেবে। এই পরিবর্তন কয়েক বছরের মধ্যে নয়, বরং কয়েক মাসের মধ্যেই বাস্তবে দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে কয়েকটি পরিচিত পরামর্শ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সফটওয়্যারের ত্রুটি দ্রুত হালনাগাদ করা, অপ্রয়োজনীয় সিস্টেম অনলাইনে না রাখা এবং সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানো। জোটটি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের প্রতিরক্ষামূলক কাজে এআই ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিস্টেমের দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত করা এবং সাইবার হামলার ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যানথ্রপিকের 'মিথোস' এবং ওপেনএআইয়ের 'জিপিটি-৫.৫ সাইবার'-এর মতো উন্নত মডেল নিয়ে বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্বেগ বাড়ছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে জটিল এবং সম্ভাব্যভাবে ভয়াবহ সাইবার হামলা পরিচালনা করা অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে।
এ মাসের শুরুতে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বিদেশি নাগরিকদের জন্য অ্যানথ্রপিকের 'মিথোস' মডেলের ব্যবহার স্থগিত করার নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। প্রতিষ্ঠানটি মডেলটির একটি সংস্করণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার প্রতিরক্ষা সংস্থা সাইসা সরকারি নেটওয়ার্কে গুরুতর ডিজিটাল দুর্বলতা দূর করার সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। আগে যেখানে এ ধরনের ত্রুটি সমাধানে বেশি সময় দেওয়া হতো, এখন তা তিন দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে এআই-সংশ্লিষ্ট সাইবার হুমকিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।