সব সংবাদ
স্বাস্থ্য

ডেঙ্গু সারাবছরের রোগে পরিণত, আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক

দেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়, সারাবছরই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম ২১ দিনে এক হাজার সাতশ’ তিনজন আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

গত কয়েক বছরে ডেঙ্গুর ধরন পাল্টে গেছে। একসময় বর্ষাকালে এ রোগ দেখা দিত, কিন্তু এখন সারাবছরই ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এডিস মশার জীবনচক্রের পরিবর্তন, জনসচেতনতার অভাব এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এর প্রধান কারণ। চলতি বছরের জুন মাসের শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেছে। জুনের ২১ দিনে দেশের ৫৮টি জেলায় এক হাজার সাতশ’ তিনজন আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২২০ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চার হাজার ৯০০ জন আক্রান্ত হয়েছে। একসময় শুধু ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল, এখন সারাদেশেই এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বরিশালে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। ২০০০ সালে দেশে প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়, সে বছর ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবছরই ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ২০১৯ সালে এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন আক্রান্ত হয়ে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালে তিন লাখ ২১ হাজার ৭০৫ জন আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, যা সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন আক্রান্ত হয়ে ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়। গত বছর আক্রান্ত হয় এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের। এ বছর সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। ঢাকার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টি এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনেরও বেশ কিছু ওয়ার্ড ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এবার ৬৪টি জেলাতেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডেঙ্গু প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নাগরিক সচেতনতার অভাবের কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ব্যাপক ও পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এখনই বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জনগণের মধ্যে ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধি করা।