সব সংবাদ
খেলা

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড: এমবাপ্পে কি মেসিকে টপকাতে পারবেন?

ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ইরাকের বিপক্ষে ১০০তম ম্যাচ খেলতে নামছেন। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান। এখন মেসির ১৬ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র ২ গোল দূরে থাকা এমবাপ্পে যদি হ্যাটট্রিক করেন এবং মেসি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল না করতে পারেন, তাহলে ২৭ বছর বয়সে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন।

ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে আজ রাতে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। এটি হবে তাঁর ফ্রান্স জার্সিতে ১০০তম ম্যাচ — একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে ফ্রান্সের ইতিহাসে এবং বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান। তাঁর বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা এখন ১৪। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসারের ১৬ গোলের বিশ্ব রেকর্ড থেকে তিনি মাত্র ২ গোল দূরে ছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে মেসি এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে দেন এবং নিজেকে ক্লোসারের পাশে বসিয়ে নেন। এখন রোমাঞ্চটা আরও বেড়ে গেছে সূচির কারণে। কাকতালীয়ভাবে ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়ার। ফলে রাতটা হতে পারে ইতিহাস লেখার। মেসি যদি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করতে ব্যর্থ হন এবং এমবাপ্পে ইরাকের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন, তাহলে মাত্র ২৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন এমবাপ্পে। ফ্রান্স শুধু এমবাপ্পের রেকর্ডের হিসাবে ব্যস্ত নয়, ইরাককে হালকাভাবে নিতে রাজি নয় তারা। ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা মনে করছেন ম্যাচটা সহজ হবে না। তিনি বলেছেন, 'ইরাক বেশ ভালো দল। লোকে যতটা সহজ ভাবছে, কাজটা অত সহজ হবে না। তারা যোগ্যতা অর্জন করেই এখানে এসেছে, প্লে-অফে বলিভিয়াকে হারিয়েছে, স্পেনের সঙ্গে ড্র করেছে। আমরা একটা কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি।' ইরাকের বিশ্বকাপ রেকর্ড বেশ দুর্বল। তারা একবারই ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ খেলেছিল এবং তিন ম্যাচের সব কটিতেই হেরেছিল। এবার মূল পর্বে আসতে তাদের খেলতে হয়েছে ২১টি বাছাইপর্বের ম্যাচ। গত মার্চের শেষে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট পায় ইরাক। আজ রাতের ম্যাচটা দুই দলের শারীরিক শক্তির পরীক্ষা হবে বলে মনে করছেন আরেক ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। তিনি বলেছেন, 'ম্যাচটা খুব তীব্র হবে। তারা বিশ্বকাপে টিকে থাকার জন্য খেলবে, তাই শারীরিক ফুটবল খেলবে। আমাদের তৈরি থাকতে হবে।' প্রথম ম্যাচে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মাঠের মান নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন সালিবা। ফিলাডেলফিয়ার মাঠ নিয়েও শঙ্কিত তাঁরা। সালিবা বললেন, 'মাঠের মান দেখে অবাক হয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল কৃত্রিম ও শক্ত পিচ। ঘাসগুলো মোটেও ভালো ছিল না। জানি, এটা দুই দলের জন্যই সমান।' তবে ফ্রান্সের নকআউট নিশ্চিত করার সুযোগ, ইরাকের টিকে থাকার লড়াই আর মাঠের মান নিয়ে শঙ্কা ছাপিয়ে আজ একটাই প্রশ্ন — মেসি এগিয়ে যাবেন, নাকি এমবাপ্পে?