সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙার প্রতিবাদে ভারতজুড়ে বড় আন্দোলনের ডাক

ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চলমান দমন-পীড়ন ও মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙার প্রতিবাদে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড একটি বড় গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছে। ২২ জুন ২০২৬ তারিখে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই ঘোষণা করে একটি বিশেষ সংগ্রাম কমিটিও গঠন করেছে।

ভারতে মুসলিমদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিককরণ এবং বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ ও মাদ্রাসা ভাঙার প্রতিবাদে এক তীব্র গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি)। সোমবার ২২ জুন ২০২৬ তারিখে বোর্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টির সুষ্ঠু তদারকির জন্য একটি বিশেষ 'অ্যাকশন কমিটি' বা সংগ্রাম কমিটিও গঠন করেছে তারা।

বোর্ডের মুখপাত্র ড. এস কিউ আর ইলিয়াস সাংবাদিকদের জানান, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের ঘরবাড়ি, এলাকা, মসজিদ এবং মাদ্রাসা লক্ষ্য করে চালানো উচ্ছেদ অভিযান বা 'বুলডোজার সন্ত্রাস' চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে গণপিটুনি (লঞ্চিং), সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক 'বন্দে মাতরম' গাওয়ানোর বাধ্যবাধকতা এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকরের মতো ইস্যুগুলোতে ভারতের মুসলিম সমাজ আজ গভীর সংকটের মুখে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি, সম্মান, ধর্মীয় অধিকার এবং বিশ্বাস ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে। অথচ দেশের কোনো রাজনৈতিক দলই—এমনকি কংগ্রেসও—মুসলিমদের এই সংকট নিয়ে জোরালোভাবে সোচ্চার হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর এই উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের গণতন্ত্রকামী, শান্তিপ্রিয় ও ন্যায়পরায়ণ নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে তারা এই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করবে।

এছাড়া, মধ্যপ্রদেশের কামাল মওলা (ভোজশালা) মসজিদ নিয়ে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়টির ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। তাদের মতে, ঐতিহাসিক প্রমাণ ও ব্রিটিশ আমলের নথি উপেক্ষা করে এই রায় দেওয়া হয়েছে, যা ১৯৯১ সালের ধর্মীয় উপাসনালয় আইনের পরিপন্থী।

বোর্ড আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, দেশের নাগরিকদের ওপর জোর করে 'বন্দে মাতরম' চাপিয়ে দেওয়া ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে। যদি কেন্দ্রীয় সরকার এটি বাধ্যতামূলক করার কোনো চেষ্টা করে, তবে বোর্ড আদালতের দ্বারস্থ হবে। পাশাপাশি, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের পর আসাম, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রেও যেভাবে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পাঁয়তারা চলছে, তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় এই মুসলিম সংগঠনটি।

ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর এই মানবাধিকার ও আইনি লড়াইকে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে শিগগিরই একটি বিস্তারিত শ্বেতপত্র বা তথ্যসমৃদ্ধ নথি প্রকাশ করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।