সীমান্ত এলাকায় লাগাতার ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে প্রাণহানি, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে গত কয়েক মাসে একাধিক ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশের ভেতরে কে বা কারা এই মাইন পুঁতছে তা স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় জীবিকা হারানোর পাশাপাশি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সীমান্তবাসীরা।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় গত কয়েক মাসে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।
গত ২৪ মে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে একটি কলাবাগানে কাজ করার সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন শৈফুচিং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২), অক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০) এবং চিক্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩৪)। তারা পাহাড়ের ঢালে থাকা কলাবাগানের পরিচর্যা করতে গিয়েছিলেন।
এই ঘটনায় শৈফুচিংয়ের স্ত্রী মাথিংচিং তঞ্চঙ্গ্যা এখন তিন সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। তিনি জানান, তার স্বামী বাংলাদেশের ভেতরে নিজের জুমে কাজ করতে গিয়ে কেন মারা গেলেন তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
একই এলাকায় ৯ জুন আরেকটি বিস্ফোরণে ৩০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শ্রমিক আবদুল খালেক নিহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, এই বিস্ফোরণগুলো সীমান্তরেখা থেকে দূরে বাংলাদেশের ভেতরে ঘটেছে। তাই মিয়ানমারের ভেতর থেকে আরাকান আর্মি এসে মাইন পুঁতেছে—এমনটি বিশ্বাস করা কঠিন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বলেন, তারা এলাকায় একটি সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর উপস্থিতি দেখেছেন এবং তারাই মাইন পুঁতে থাকতে পারে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ওই এলাকায় দুই পাহাড়ি বাসিন্দা গবাদিপশু চরাতে গিয়ে নিখোঁজ হন। তারা এখনো উদ্ধার হয়নি।
বিজিবি ব্যাটালিয়ন-৩৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে যে, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের সদস্যরা কখনো কখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং তখন মাইন পুঁতে গেছে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় এবং তদন্ত চলছে।
খায়রুল আরও জানান, পাহাড়ি এলাকায় অনেক সময় 'জিরো লাইন' চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক একটি বিস্ফোরণ মিয়ানমারের ভেতরে প্রায় ২০ গজ দূরে ঘটেছিল।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি কৃষক, পাহাড়ি শ্রমিক, রোহিঙ্গা শরণার্থী, কাঠ সংগ্রহকারী এমনকি বিজিবি সদস্যও।