চীনের সাথে ইরানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেইজিংয়ের প্রতিশ্রুতি
ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি গাফফার নেজামীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এই বৈঠকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ১৪ দফার চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে চীন।
ভারতের নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি গাফফার নেজামীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে চীন পাশে থাকবে।
বৈঠকে ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক ১৪ দফার চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি 'সমতার চেতনা' ধারণ করে এবং জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নিয়মনীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তির বাস্তবায়ন কষ্টার্জিত যুদ্ধবিরতিকে আরও সুসংহত করবে। একইসঙ্গে এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা উল্লেখ করে ওয়াং ই বলেন, 'ইরানের একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন সবসময় একটি নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রেখেছে। চীন শান্তির পক্ষে নেওয়া সমস্ত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। একইসঙ্গে ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় দেশটির পাশে দাঁড়াতে বেইজিং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য উপসাগরীয় এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সুসংহত করতে তেহরানের নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে ভারতে নিযুক্ত ইরান দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেইজিংয়ের এই জোরালো রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য চীনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানি প্রতিনিধি গাফফার নেজামী।