আগামী দুবছর অর্থনীতির জন্য 'কঠিন' সময়: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সতর্ক করে বলেছেন, আগামী দুবছর অর্থনীতির জন্য কঠিন সময় যাবে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করে নতুন বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীলতায় আসতে দুবছর সময় লাগবে এবং তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।
অর্থনীতি নানামুখী চাপে থাকায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতির উন্নতি না মেলায় আগামী দুবছর সময় 'কঠিন' যাবে বলে সতর্ক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বিষয়ক এক আলোচনায় তিনি বলেন, 'দুইবছর সময় কঠিন যাবে আমি আগেভাগে বলছি। দুইটা বছর কষ্ট করতে হবে সবাই মিলে।' তবে ব্যবসায় চাঙ্গা ভাব না এলেও এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল না হওয়া সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির বাজেট ঘোষণায় নানান আশার কথা শুনিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, 'এই ভঙ্গুর অর্থনীতি, খারাপ অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল করতে দুই বছর লাগবে। তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে ইনশাল্লাহ। ঘুরে দাঁড়াবে। এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে অর্থনীতি হবে প্রসপারিটি অব বাংলাদেশ। চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হচ্ছে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ- আমরা দেখব।'
পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতেও দুবছর প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'ক্যাপিটাল মার্কেট, এগেইন আমি তো বলছি দুই বছরের কুশন দরকার। আপনি দেখবেন ইনশাল্লাহ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে।' কীভাবে হবে তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, 'এইজন্য আমরা ক্যাপিটাল মার্কেটের প্রথম আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আস্থাটা ফিরিয়ে আনা। এইজন্য আমরা একটা কমিশন করেছি যারা একদম ইন্ডিপেন্ডেন্ট, নন পলিটিক্যাল এবং পুরোপুরি পেশারদার লোক। সুতরাং এরা সব আইনগুলো চেঞ্জ করছে যাতে আমাদের ইনভেস্টররা সিকিউর থাকে।'
মন্ত্রী আরও বলেন, 'ডিরেগুলেশন ইজ এ বিগ মুভ। আমি জানি এটা খুব কঠিন। অনেক বাধাগ্রস্ত আমি হয়ে গেছি অলরেডি। ইতিমধ্যে করার সময়ই বাধাগ্রস্ত হয়েছি। এটা এক্সিকিউশন করতে গেলে আরও বাধাগ্রস্ত হব আমি জানি কিন্তু যত কঠিন ডিসিশন নিতে হয় আমি নিতে প্রস্তুত আছি।'
বাজেট বক্তৃতায় সাড়ে চার পৃষ্ঠা এ নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী; সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে যেসব বাধার শিকার হতে আমলাতান্ত্রিক কারণে সেসবের অনেককিছু কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয় সরকারের তরফে। একই সঙ্গে আমদানির ক্ষেত্রে নানান বাধা কমিয়ে আনারও কথা বলা হয়।
অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বিজনেস স্কুলের ডিন প্রফেসর এমএ বাকী খলিলী আগামী করবর্ষের ব্যক্তিশ্রেণির করকাঠামোর সমালোচনায় বলেন, এরজন্য করের চাপ বেড়ে সীমিত আয়ের মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা কমে। তিনি মনে করেন শতাংশ হার এটি রাখা উচিত ছিল সরকারের। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক বিশ্ববিদ্যালয় মুনাফা না করায় এখান থেকে করপোরেট করের হার কমানোর অনুরোধ করেন। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ শতাংশ কর রয়েছে।