সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
সাইপ্রাসের লার্নাকায় নিখোঁজ এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত সপ্তাহান্তে সাইপ্রাসের লার্নাকা জেলায় একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর একটি হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃত মরদেহটি গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর। পুলিশ সাইপ্রাস মেইলকে জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র দেখে ধারণা করা হচ্ছে যে এগুলো অপহৃত শিক্ষার্থীর। ২২ বছর বয়সী শাহরুয়ার আহমেদ ইমন নামের ওই বাংলাদেশি তরুণ গত সপ্তাহে নিখোঁজ হন। গত রবিবার এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আরও এক ২২ বছর বয়সী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি অপহরণ এবং অপহৃতকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্তকারীদের নিহতের মরদেহের কাছে নিয়ে যান এবং সেখানে একটি ছুরি পাওয়া যায়। অভিযুক্তের দাবি, এটিই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র। পরবর্তীতে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলটি কর্ডন করে রাখা হয় এবং একজন ফরেনসিক ডাক্তার ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সেখানে ডেকে আনা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, মরদেহে কোনো ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীর বেশ কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং সব আলামত ইঙ্গিত করছে যে মরদেহটি নিখোঁজ শিক্ষার্থীরই। জানা গেছে, গত ১২ জুন ওরেক্লিনির বাসা থেকে লার্নাকার একটি স্থানীয় কারখানায় কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর ইমন অপহৃত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি তাঁর এক বন্ধুকে নিজের লোকেশন লিখে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন এবং বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে মেসেজ দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তাঁর সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর বাবার কাছে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি বেশ কয়েকবার ফোন করে ছেলের মুক্তির বিনিময়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশের তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।