সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ: লেবার পার্টিতে তীব্র বিদ্রোহের মুখে

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন। তিনি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নতুন নেতা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় দুই বছর পর লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ তীব্র বিদ্রোহ ও নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন স্যার কিয়ার স্টারমার। সোমবার (২২ জুন ২০২৬) এক নাটকীয় ও আবেগঘন বিবৃতিতে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে অনতিবিলম্বে তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ছেন না। স্টারমার জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখা যায়। একপর্যায়ে তার গলা বুজে আসে। তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি এখন তার পরিবারকে সময় দিতে চান। এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য স্ত্রী ভিক্টোরিয়া এবং সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

লেবার পার্টির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা স্বীকার করে স্টারমার বলেন, 'আমি দলের রায় মেনে নিয়েছি। লেবার পার্টি মনে করছে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি আর উপযুক্ত ব্যক্তি নই।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই ছিল ভালোবাসার এই দেশটিকে সবার আগে রাখার জন্য। আর সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।' এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি ইতিমধ্যে রাজা চার্লসকেও অবহিত করেছেন বলে জানান।

গত কয়েক দিন ধরেই কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দলের ভেতর থেকে আসা এই বিদ্রোহের মুখে তিনি বিদায়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হলেন। এর ফলে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে আবারও এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করল।