ইরান যুদ্ধে নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা ইসরাইলি জনগণের ৫৬% এর অভিমত
হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে ব্যর্থ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ ইসরাইলি। জরিপে ৯২ দশমিক ১ শতাংশ মনে করেন এই সংঘাতে ইরানই প্রকৃত বিজয়ী হয়েছে।
হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম পরিচালিত এক গুরুত্বপূর্ণ জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গত ১৭ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৪৪ জনের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে ব্যর্থ হিসেবে দেখছেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন, সংঘাত চলাকালে নেতানিয়াহু তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি। মাত্র ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ নেতানিয়াহুর সেই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ইসরাইল যুদ্ধের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে এবং একটি অস্তিত্বগত হুমকি দূর করতে সক্ষম হয়েছে। আরও উদ্বেগজনকভাবে, ৯২ দশমিক ১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, এই সংঘাতে ইরানই কার্যত বিজয়ী হয়েছে। একই সঙ্গে ৮২ দশমিক ৯ শতাংশের মতে, যুদ্ধটি ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দুর্বল করেছে।
জরিপের ফলাফলে আরও দেখা যায়, ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে ইসরাইল তাদের ঘোষিত সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি অথবা আংশিকভাবে সফল হয়েছে। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার দিক থেকেও ধাক্কা খেয়েছেন নেতানিয়াহু। চলতি বছরের মার্চ মাসে যেখানে ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন জানিয়েছিলেন, জুনে সেই হার কমে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
তবে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিয়েছেন অনেক ইসরাইলি। জরিপ অনুযায়ী, ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী লেবাননে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, যদিও এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধ বা কূটনৈতিক উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন ২০ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা সংঘাত নিরসনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।