সব সংবাদ
জাতীয়

মাগুরায় অবৈধ বালু উত্তোলন চরমে, শত শত ট্রাক যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার একটি বালু মহালে ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ ট্রাক বালু তুলে পাঠানো হচ্ছে, যার ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গোয়ালদা-ঘোষিয়াল বালু মহাল থেকে ইজারা ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জোরদার ভূমিকার অভাবে দিনের পর দিন এ কর্মকাণ্ড চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিয়াল বালু মহালটি প্রতি বছর সরকারি নিয়মে ইজারা দেওয়া হলেও বিগত ইজারার মেয়াদ শেষ হয় ৩০ চৈত্র। নিয়ম অনুযায়ী পহেলা বৈশাখ থেকে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা শেষ হয়নি। এই সুযোগে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর চরে একাধিক ড্রাম ট্রাক ও এক্সকাভেটর দিয়ে বালু কেটে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। পরে স্লিপের মাধ্যমে ট্রাকগুলো বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে মাগুরাসহ আশপাশের জেলায় চলে যাচ্ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবাধে এই কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।

স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ ট্রাক বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। ট্রাকপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা হারে আদায় করে স্লিপ দেওয়া হচ্ছে। তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি পক্ষ এই সিন্ডিকেট চালাচ্ছে।

অবৈধভাবে বালুভর্তি ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গোয়ালদা বাজার থেকে মাগুরা শহর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রথমে জানান, ৩০ জুন পর্যন্ত বালু মহালের ইজারার মেয়াদ রয়েছে। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি বক্তব্য সংশোধন করে বলেন, প্রকৃত মেয়াদ ছিল ৩১ চৈত্র পর্যন্ত। ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলনের কোনো নিয়ম নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে ২১ দিনের জন্য অতিরিক্ত মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।