সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা: ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির রোডম্যাপ

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়েছে। উভয় দেশ ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। এছাড়া লেবাননে যুদ্ধবিরতির জন্য একটি 'ডি-কনফ্লিকশন সেল' গঠন করা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নে ১২ ঘণ্টা ব্যাপী ম্যারাথন বৈঠকের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশ একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেছে। এই বিবৃতিতে ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপে সম্মত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে।

আলোচনার প্রধান ফলাফলগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন, যা মধ্যস্থতা কার্যক্রমের রাজনৈতিক তত্ত্বাবধান করবে। এই কমিটি পরমাণু, নিষেধাজ্ঞা এবং বিরোধ নিরসন বিষয়ে কাজ করবে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রযুক্তিগত আলোচনা রাজনৈতিক চুক্তির চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হতে পারে।

লেবানন পরিস্থিতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চুক্তিতে একটি 'ডি-কনফ্লিকশন সেল' গঠন করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ করা। তবে বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, লেবানন ও ইসরাইল সরকার এই আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি, তাহলে এই প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর হবে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে, ইরানের তেল রপ্তানি ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হয়েছে। হর্মুজ প্রণালীতে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং কিছু স্থবলিত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনে কংগ্রেসে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার বিষয়ে বিরোধিতা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হর্মুজ প্রণালী নিয়ে একটি যোগাযোগ লাইন স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে। সম্প্রতি এই রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ব্যাপক বাধা দেখা দিয়েছিল।

মূল প্রতিবেদন (Reference): What are the key outcomes of the Iran-US talks in Switzerland, what next? — Al Jazeera