সব সংবাদ
জাতীয়

টাঙ্গাইলে নিখোঁজ শিশু সেঁজুতির মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের সখিপুরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর একটি পুকুর থেকে ৮ বছরের শিশু শিক্ষার্থী সেঁজুতি চন্দ্র সরকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেছে। এ ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল জেলার সখিপুরে একটি শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সখিপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার সেঁজুতি চন্দ্র সরকার (৮) নামের এই শিশুটি সখিপুর আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা ফালু চন্দ্র সরকার ও মা শোভা চন্দ্র সরকার।

গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে সে হারিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এই ঘটনায় শনিবার রাতে সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

রোববার রাতে পরিবারের কাছে একটি অজ্ঞাত ফোনকল আসে, যেখানে সেঁজুতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এরপর ২২ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিশু সেঁজুতির মা শোভা চন্দ্র সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, তার অনেক শত্রু আছে এবং তার ছোট্ট মেয়েটিকে মেরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের ফাঁসি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সখিপুর থানার পুলিশকে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

সখিপুর থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।