গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১৫ কোটি টাকার বনভূমি উদ্ধার, ৭০০ চারা রোপণ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মন্ডলপাড়া এলাকায় বন বিভাগের ৭০ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জমির বাজার মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। উচ্ছেদের পর ৭০০টি বনজ ও ফলজ চারা রোপণ করে নতুন করে বনায়ন কর্মসূচি শুরু করেছে বন বিভাগ।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মন্ডলপাড়া এলাকায় বন বিভাগের ৭০ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এই সরকারি বনভূমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। আজ সোমবার (২২ জুন ২০২৬) সকালে কালিয়াকৈর রেঞ্জের চন্দ্রা বিট অফিসার ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সহকারী বন সংরক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম শাকিলসহ বন প্রহরীরা উপস্থিত ছিলেন। উচ্ছেদের পরপরই উক্ত জমিতে ৭০০টি বনজ ও ফলজ চারা রোপণ করে নতুন করে বনায়ন কর্মসূচি শুরু করেছে বন বিভাগ। সরেজমিনে দেখা যায়, মন্ডলপাড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশের এই জমিটি একসময় ঘন গজারি বন ছিল। স্থানীয় জুট ব্যবসায়ী ও গোডাউন মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এই জমি জবরদখল করে রেখেছিল। তারা বনের গজারি গাছ কেটে সেখানে জুট শুকানো ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কাজে ব্যবহার করছিল, যা পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। উচ্ছেদের পর জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, পাটের বস্তা ও অন্যান্য বর্জ্যের স্তূপ পরিষ্কার করে সারি সারি চারা গাছ নিয়ে বনায়নের কাজ শুরু করেন শ্রমিকরা। বন বিভাগের কর্মীরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানের পর জমি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ৭০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে। চারপাশ দিয়ে সিমেন্টের খুঁটি ও কাঁটাতার দিয়ে বেড়া দেওয়া হচ্ছে, যাতে গবাদি পশু ও জবরদখলকারীরা পুনরায় কোনো ক্ষতি করতে না পারে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, এই জায়গাটা আগে ঘন বন ছিল। গাছ কেটে গোডাউন মালিকরা জুট শুকাতো। চারপাশে ময়লার স্তূপ থাকায় বাজে গন্ধ বের হতো। এখন বন বিভাগ জমি উদ্ধার করে গাছ লাগাচ্ছে, দেখে ভালো লাগছে। এলাকা ও পরিবেশ বাঁচবে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, গজারি বন উজাড় হওয়ায় এলাকায় তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছিল এবং পাখি ও বন্যপ্রাণী হারিয়ে গিয়েছিল। এখন বিভিন্ন প্রজাতির ৭০০ চারা রোপণের মাধ্যমে হারানো প্রকৃতি ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে এই এলাকা আবার সবুজে ভরে উঠবে। বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম শাকিল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে 'একটি গাছ, একটি জীবন' স্লোগান বাস্তবায়নে আমরা নিরলস কাজ করছি। মন্ডলপাড়ার ৭০ শতাংশ মূল্যবান বনভূমি আজ দখলমুক্ত করে ৭০০ চারা রোপণ করা হয়েছে। জবরদখলকারীরা যদি বনায়ন কাজে কোনো ধরনের বাধা প্রদান করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর মামলা করা হবে। বনভূমি রক্ষায় আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত এই জমিতে এখন থেকে বন বিভাগের কর্মীরা নিয়মিত টহল দেবেন এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ নতুন করে দখল করতে না পারে, সেজন্য স্থায়ী সীমানা পিলার স্থাপন করা হবে।