সুন্দরগঞ্জে তিস্তার বানে ভাঙন আতঙ্ক, শত শত পরিবার ঘরছাড়া
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কাপাশিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার গ্রামে শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। উপজেলার বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর ও কাপাশিয়া ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় ভাঙনের শিকার হয়ে নিরুপায় মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে গবাদীপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন। গত ৭২ ঘণ্টায় কাপাশিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার গ্রামে প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের আতঙ্কে ভোরের পাখি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার ইতোমধ্যেই তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
তিস্তার পানি বাড়ায় চরের নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া বা কলা গাছের ভেলা দিয়ে এক চর থেকে অন্য চরে যাতায়াত করছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গেই ভাঙন শুরু হয়, যা মাসের পর মাস চলতে থাকে। সরকার স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধ, ড্রেজিং বা নদী খননের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বছর প্রায় চার-পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ও হাজারো একর জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে।
কাপাশিয়া ইউনিয়নের সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, গত ১৯ জুন থেকে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে উত্তর লালচামার গ্রামের সফিয়াল, শরফ আলী, আবুল মিয়া, জহুরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলামসহ ৫০ জনের বাড়ি ও শতাধিক বিঘা আমন ক্ষেত বিলীন হয়েছে।
কাপাশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনজু মিয়া বলেন, ভাঙন রোধে নদী খনন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য বহুবার সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু আজও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আপাতত শুধুমাত্র ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে প্রাথমিক প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফ্ফার জাহান তুলি জানান, গত শনিবার থেকে তিস্তার পানি বাড়ায় চরের নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। উত্তর লালচামার গ্রামের বেশকিছু বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার খবর পেয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।