ঘোপাল-শুভপুরে আলমগীর সিদ্দিকীর ত্রাসের রাজ্য: বালু মহাল থেকে মাদক চোরাচালান সবই নিয়ন্ত্রণে
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ও শুভপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আলমগীর সিদ্দিকী একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্রান্স থেকে ফিরে তিনি এই দুই ইউনিয়নে বালু উত্তোলন, মাদক কারবার, চোরাচালান, জবর দখলসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ও শুভপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আলমগীর সিদ্দিকী ত্রাসের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একসময় ঘোপাল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও ঘোপাল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকা আলমগীর সিদ্দিকী এক-এগারোর সময় দেশ ছেড়ে প্রবাসে চলে যান। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগের পতনের পর হঠাৎ ফ্রান্স থেকে এসে রাতারাতি এই দুই ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি।
বালু মহাল থেকে শুরু করে জবর দখল, মাদক, সরকারি জমি থেকে মাটি লুট, চোরাচালানসহ কোনো অপরাধ নেই যা তার দ্বারা হচ্ছে না। ফেনী নদীর তীরে গড়ে উঠা এই দুইটি ইউনিয়ন বরাবরে আলোচিত। বিশেষ করে দুইটি ইউনিয়নের বালু মহালের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েই রাজনীতিতে ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসে।
ঘোপাল ইউনিয়ন বিএনপি তিন ভাগে বিভক্ত। আলমগীর সিদ্দিকীর একচ্ছত্র দাপটে ইউনিয়নটিতে তার অনুসারীরা সকল অপকর্ম করে থাকে। অন্যদিকে শুভপুরে মোটাদাগে বিএনপির দুইটি গ্রুপ রয়েছে। এই গ্রুপগুলোর বেশিরভাগে আবার আলমগীর সিদ্দিকীর অনুসারী। আলমগীর সিদ্দিকীর মদদে তারা বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে থাকে।
দুই ইউনিয়নে নিজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে আলমগীর সিদ্দিকী গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বাহিনী। এদের বেশিরভাগে আবার ছাত্রলীগ-যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। তাদের দিয়ে তিনি বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকেন। বিশেষ করে বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ এদের দিয়ে করে থাকেন। বালু উত্তোলনে বাধা দিলে হামলা করিয়ে থাকেন তিনি।
এছাড়া মাদক, অস্ত্র, চোরাচালানেও জড়িত রয়েছে সে। মাদক বা অস্ত্রের বিষয়ে মাঈন উদ্দিন মামুন প্রকাশ ডাকাত মামুনের সাথে আলমগীর সিদ্দিকীর ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ও অডিও রেকর্ড ফেনীর সময়ের হাতে এসেছে। আলমগীর সিদ্দিকী অস্ত্র কারবারের সাথেও জড়িত রয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থাদের একটি সূত্র জানায়।
শুভপুর ব্রিজের পশ্চিম পাশে বালু মহালের নির্দিষ্ট এলাকায় রাত হলেই চলে বালু উত্তোলন। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পূর্বে সেখানে পর্বতসম বালুর স্তুপ ছিল। তখনকার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ-সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল এটার নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী এটার নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।
ঘোপাল ইউনিয়নের নাঙ্গলমোড়া ও আলোকদিয়ায়ও তোলা হচ্ছে বালু। সন্ধ্যা হলেই বালু উত্তোলন শুরু হয়। ঘোপাল ইউনিয়নের এই দুই স্থান থেকেও আলমগীর সিদ্দিকী বালু তুলে থাকেন। বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় স্থানীয়দের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকবার।
ঘোপাল ও শুভপুরে চলছে দখলের মহোৎসব। বালু উত্তোলনের জন্য আশপাশের জমি যেমন দখল করছে, তেমনি সরকারি জায়গা, নদীর পাড় ও আশপাশের জমি থেকে যথেচ্ছভাবে কেটে নিয়ে গেছে মাটি। এসবের সব অভিযোগ আলমগীর সিদ্দিকী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। নামকাওয়াস্তে টাকা দেওয়ার নামে দখল করেছে মসজিদ ও মাদরাসার জায়গায়ও।
ঘোপাল ও শুভপুরে চলছে রমরমা মাদক কারবার। সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন শুভপুর হয়ে এসব মাদক প্রবেশ করে এ দুই ইউনিয়নে। এই দুই ইউনিয়নে যেমন মাদকের ছড়াছড়ি রয়েছে তেমনি বেশ কয়েকটি রুট হয়ে এসব মাদক পুরাতন মুহুরিগঞ্জ বা ফাজিলপুর হয়ে চট্টগ্রাম বা আশপাশের জেলায় ছড়িয়ে যায়।
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের দিয়ে আলমগীর সিদ্দিকী গড়ে তুলেছে নিজস্ব বাহিনী। এ বাহিনীতে ঘোপাল ও শুভপুরের পাশাপাশি মিরসরাই ও ফরহাদনগরের বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীও রয়েছে। এদের বেশিরভাগে চুরি, অস্ত্র, মাদক ও ডাকাতি মামলার আসামি।
এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি উপজেলা বিএনপি। আলমগীর সিদ্দিকী বলেন, অনেকে হিংসার বশবর্তী হয়ে আমার পিছনে লেগেছে। সে হিসেবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।