ড্রেসিংরুমে ইরানের হৃদয়স্পর্শী বার্তা: 'পারস্যের চেতনা জীবিত অটল'
বিশ্বকাপে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি হৃদয়ছোঁয়া বার্তা রেখে গেছে ইরান দল। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের হাতে লেখা সেই বার্তায় প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের ইরান পর্যন্ত দেশের চেতনা জীবিত ও অটল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের মাঠে শুধু গোল আর জয়ের গল্পই নয়, থাকে আবেগ, কৃতজ্ঞতা আর লড়াইয়ের আখ্যান। যুক্তরাষ্ট্রের নানা বিধিনিষেধ পেরিয়ে চোখে-চোখ রেখে লড়েছে ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে তাই ইরান রেখে গেছে এক হৃদয়ছোঁয়া বার্তা। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশিত হাতে লেখা সেই বার্তায় লেখা ছিল— 'হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের চেতনা জীবিত ও অটল। লস অ্যাঞ্জেলেসকে আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। আমরা লস অ্যাঞ্জেলেসে গর্ব নিয়ে এসেছিলাম, সম্মানের সঙ্গে খেলেছি এবং মর্যাদা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।' বার্তায় ইরানি সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে, যারা দলের জন্য 'হৃদয়, কণ্ঠ এবং আত্মা' উৎসর্গ করেছেন। শেষে সব দেশের মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্বের আহ্বান জানানো হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরান তাদের গ্রুপের দুটি ম্যাচই খেলেছে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ইরান দল মূলত মেক্সিকোর তিজুয়ানায় আছেন। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলছেন। কারণ তাদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও ভ্রমণ নিয়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। পাশাপাশি দলের কয়েকজন স্টাফ ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দলের ভ্রমণ ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইরানের কোচ আমির গালেনোয়ি বারবার এই ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন ইরানকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে যা অন্য কোনো দলকে করতে হয়নি। তবে ইরানের এখনও নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা আছে। তারা তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলবে সিয়াটলে, মিশরের বিপক্ষে। ওই ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করবে ইরান আসলেই কি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিচ্ছে নাকি থাকছে।