সব সংবাদ
রাজনীতি

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ইনুর মামলার রায় আগামী ৩০ জুন

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সাতজনকে হত্যাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী ৩০ জুন জানা যাবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ঠিক করে দিয়েছেন। এই মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম ও ফারুক আহাম্মদ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সাতজনকে হত্যাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ অগাস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত বছরের ২ নভেম্বর এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। গত ১৪ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম অভিযোগ দাখিলকালে বলেছিলেন, হাসানুল হক ইনু ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এবং জাসদের সুপ্রিম ছিলেন। তিনি নিয়মিত শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সশস্ত্র ক্যাডারদেরকে অপরাধ সংগঠনে নির্দেশনা দিতেন। ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা ও ইনুর ফোনালাপ দাখিল করা হয়েছিল। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে নির্দেশনা, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করা, ছত্রীসেনা নামিয়ে বম্বিং ও গুলি করা, দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া এবং স্থানীয় এসপিকে অবহিত করা। কৌঁসুলি বলেছিলেন, ফোনালাপে ইনু বলেছিলেন আন্দোলনকারীদের ধরা হবে, তারপর স্ক্রলে নিউজে আসবে যে তাদের জেলখানায় পাঠানো হয়েছে, কিন্তু ছেড়ে দেওয়া হবে আরকি – মানে তাদের মেরে ফেলা হবে। জঙ্গি নাটকের কার্ড খেলতে হবে, আন্দোলনকারীদেরকে জঙ্গি বলা হবে এবং তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হবে। এছাড়া ৫ অগাস্ট কারফিউ উঠিয়ে দিয়ে প্রতিটা ওয়ার্ড থেকে ২ হাজার লোক ঢাকায় জমায়েত করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।