এবারের বিশ্বকাপে গোলের বন্যা কেন?
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৪০ ম্যাচে ১২১ গোল হয়েছে। গড়ে প্রতি ম্যাচে ৩.০২৫ গোল হচ্ছে, যা যদি বজায় থাকে তাহলে কাতার বিশ্বকাপের ১৭২ গোলের রেকর্ড ভেঙে যাবে।
এবারের বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যা এখন তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে গেছে। গত পরশু সুইডেনের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ফরোয়ার্ড কোডি গাকপোর করা দ্বিতীয় গোলটি ছিল এবারের বিশ্বকাপের শততম গোল। এই গোলের সেঞ্চুরি করতে লেগেছে ৩৩ ম্যাচ — যা ১৯৫৮ বিশ্বকাপের পর যেকোনো বিশ্বকাপের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম। গত বিশ্বকাপে ৩৩ ম্যাচ শেষে গোল হয়েছিল ৮৩টি। সবচেয়ে কম ম্যাচে ১০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার রেকর্ড এখনও ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের। সেই আসরে পশ্চিম জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং মাত্র ২০টি ম্যাচে ১০০ গোল হয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত ৪০টি ম্যাচে ১২১টি গোল হয়েছে। প্রতি ম্যাচে গড়ে ৩.০২৫ গোল হচ্ছে। এই হার অব্যাহত থাকলে এবারই সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড তৈরি হবে। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড কাতার বিশ্বকাপের, যেখানে ১৭২টি গোল হয়েছিল। গোলবন্যার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, এবার বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বেড়েছে। ম্যাচের সংখ্যাও বেড়েছে, তাই গোলের সংখ্যা বাড়া স্বাভাবিক। চারটি নতুন দল এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে — কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান এবং উজবেকিস্তান। জার্মানি ইতিমধ্যে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচে সাতটি গোল করেছে। জর্ডান ও কলম্বিয়া তাদের প্রথম ম্যাচে ৩ গোল হজম করে হেরেছে। এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছে, সেই ম্যাচগুলোতে নতুন দুই দল কেপ ভার্দে ও কুরাসাও যুক্ত রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ম্যাচগুলোর মধ্যে তুলনামূলক লম্বা বিরতি শক্তিশালী দলগুলোকে আরও সতেজ হয়ে মাঠে নামার সুযোগ করে দিচ্ছে। তৃতীয়ত, উত্তর আমেরিকার প্রচণ্ড গরম ও তার ক্লান্তিও একটি বড় কারণ হতে পারে। এখন পর্যন্ত ১২১টি গোলের মধ্যে ৩২টি গোল (২৬.৪৪%) এসেছে ম্যাচের শেষভাগে — অর্থাৎ ৭৬তম মিনিট থেকে খেলা শেষ হওয়ার মধ্যে। এছাড়া, এবার মারাত্মক সব ভুলের কারণে গোল হজম করার সংখ্যাও বেশি। যেমন সুইডেন বনাম তিউনিসিয়া ম্যাচে তিউনিসিয়ার ইলিয়াস স্খিরি বিপজ্জনক জায়গায় বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন এবং সেই সুযোগে ভিক্টর ইয়োকেরেস গোল করেছিলেন। পুরো ম্যাচে তিউনিসিয়া এমন ৬টি ভুল করেছিল, যার ফলে ৪টি গোল হয়েছে। গোলবন্যার পেছনে তারকা ফুটবলারদের দুর্দান্ত ফর্মও অবদান রাখছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করেছেন, আর্লিং হলান্ডও দুই গোল করেছেন এবং লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক পেয়েছেন। ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দুটি ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করেছেন।