শিক্ষা বোর্ডের বিশেষ উদ্যোগ: জুনেই ঝরে যাবে ১৩ হাজার আবেদনের জমা
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসির সনদে নাম, পিতা-মাতার নাম ও জন্মতারিখ সংশোধনের জমে থাকা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ 'ক্র্যাশ প্রোগ্রাম' চালু করেছে। গত ১৫ দিনে ৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি আবেদনগুলো চলতি জুনের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবেদনের জট কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসির বিভিন্ন সনদ ও শিক্ষাসংক্রান্ত নথিতে নাম, পিতা-মাতার নাম ও জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনে এই জট তৈরি হয়েছিল। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এ ধরনের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে অনেক আবেদনকারী। কেউ কেউ দ্রুত সেবা পেতে দালালের দ্বারস্থও হন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে বোর্ড অতিরিক্ত জনবল, বাড়তি তদারকি এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া চালু করেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাপ রয়েছে নাম সংশোধনের আবেদন নিয়ে। প্রায় ৫ হাজার ৭০০ নাম সংশোধনের আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া বয়স বা জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন রয়েছে প্রায় ২৭৫টি। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে প্রায় ৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। অবশিষ্ট আবেদনগুলো চলতি জুন মাসের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেছেন, সেবাপ্রত্যাশীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দ্রুত ও সহজভাবে পৌঁছে দেওয়াই এখন বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, অপেক্ষার সংস্কৃতি ভাঙতে চাই। আগে মানুষ ধারণা করতেন আবেদন করলে অনেক সময় লাগে। এখন আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। তিনি আরও বলেন, জুলাই থেকে এ ধরনের সেবায় বড় ধরনের জট থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন। বোর্ড জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সঠিক থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার পর ১ থেকে ২ কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। এই সুবিধা জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড, প্রবেশপত্র, সনদ, নম্বরপত্র এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত নথিতে নাম ও জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে বোর্ড সতর্ক করেছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির প্রলোভন দেখিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এতে অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে যোগাযোগ না করতে এবং সরাসরি বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে।