পাঁচবিবিতে ভাঙা কালভার্টে প্রাণ যাচ্ছে, ৭ মাসেও সংস্কার হয়নি
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় একটি ভাঙা কালভার্ট গত ৭ মাস ধরে পড়ে থাকায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ মরণফাঁদে পড়ে চলাচল করছেন। সম্প্রতি এক ভ্যানচালক গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মোলান-নন্দীগ্রাম পাকা সড়কের মোলান হিন্দু পল্লীর পাশে একটি কালভার্ট ভেঙে জনসাধারণের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই সড়কের মোলান বাজার থেকে সামান্য পূর্বে অবস্থিত কালভার্টটির বেশির অর্ধেক ভেঙে পড়ে গিয়ে রড বের হয়ে আছে। এক পাশে ভাঙা কালভার্টের উপর দিয়ে অটো, ভ্যান, ভটভটি, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। স্থানীয় পবাহার গ্রামের বাসিন্দা অটোচালক আখিনুর ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে ওই ভাঙা কালভার্টে ভ্যান নিয়ে যাওয়ার সময় পবাহার গ্রামের ইমরান আলী (৪০) নামের এক ভ্যানচালক পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়। তার হাত-পা ভেঙে যাওয়ায় সে রাজশাহী হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মোলান গ্রামের শ্রী অভিলাশ মাহাতো বলেন, ৭ মাসের অধিক এ কালভার্টটি একপাশে ধসে পড়ে আছে। দেখার যেন কেউ নেই। বীনধারা গ্রামের ইজিবাইক চালক জলিলসহ একাধিক পথচারী জানান, কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় চলাচল অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অনেকেই কালভার্ট ভাঙা বুঝতে না পেরে দুর্ঘটনায় পড়েন। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকের উৎপাদিত ধান নেওয়া-আসাতে চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যাচ্ছে ভাঙা কালভার্টের উপর দিয়ে। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাশিদা বেগম বলেন, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর পরই সেটির ছবি সহ উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন বলেন, অনেক আগেই কালভার্টটি প্রতিস্থাপনের জন্য ঢাকায় প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে। দ্রুত কালভার্টটি মেরামত না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।