৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান! বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল মিশর
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রায় এক শতাব্দী অপেক্ষার পর অবশেষে জয়ের আনন্দে মেতে উঠল মিশর। নিউ জিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘জি’-তে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করল মোহাম্মদ সালাহর দল। এই নবম ম্যাচে এসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পেল আফ্রিকার এই ঐতিহ্যবাহী দেশটি।
১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মিশর। সেই সময় থেকেই তারা প্রথম আরব ও আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্ব আসরে খেলার রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে কোনো জয়ের স্বাদ পায়নি তারা। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
২২ জুন ২০২৬ তারিখে ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘জি’-এর ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় মিশর। ম্যাচের শুরুটা মিশরের জন্য কঠিন হয়ে যায়। ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত হেডার গোল করে নিউ জিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার ফিন সারম্যান। এই গোল হজম করে মিশর প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয়।
বিরতিতে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে নামে মিশর। আর সেই অর্ধেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আফ্রিকার দলটি। ৫৮ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মোহাম্মদ হানির নিখুঁত ক্রসে উড়ে গিয়ে শক্তিশালী হেডে গোল করেন মোস্তাফা জিকো। সমতা ফেরার মাত্র নয় মিনিট পরই অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ ম্যাচে নেতৃত্ব দেন। ৬৭ মিনিটে দ্রুতগতির আক্রমণে মোস্তাফা জিকোর কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দারুণ বাঁকানো শটে নিউ জিল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন লিভারপুল কিংবদন্তি। তার এই গোলে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় মিশর।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মিশর। ৮২ মিনিটে সালাহর কর্নার থেকে আসা বলে বদলি হিসেবে নামা ত্রেজেগে পোস্টের কাছাকাছি জায়গায় সহজ হেডে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে মিশর শিবির। কারণ এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, ভেঙেছে প্রায় এক শতাব্দীর অপেক্ষাও। এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও প্রথম আট ম্যাচে কোনো জয় পায়নি মিশর। অবশেষে নবম ম্যাচে এসে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেলো তারা। এই জয়ে গ্রুপ ‘জি’-তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করলেন সালাহরা।