ইবোলা সংকট: গোমা-রুয়ান্ডা সীমান্ত বন্ধ, হাজারো ব্যবসায়ীর জীবিকা ধ্বংস
কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের গোমা শহরে ইবোলা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর রুয়ান্ডার সাথে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে প্রতিদিন হাজারো ব্যবসায়ীর জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত বন্ধ করার চেয়ে পর্যবেক্ষণ বেশি কার্যকর।
গোমা ও রুয়ান্ডার গিসেনি শহরের মধ্যে পেতিত ব্যারিয়ার সীমান্তে একটি কাঠের ছোট্ট ঘর একসময় প্রতিদিন ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের ভিড়ে লোকে পূর্ণ থাকত। এখন সেটি খালি পড়ে আছে। গত ১৬ মে গোমায় একটি ইবোলা কেস নিশ্চিত হওয়ার পর এই সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা হাজারো মানুষের জীবিকার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তিন সন্তানের মা মুরিয়েল ইহোরা টমেটো বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি জানান, ১৭ মে ভোরে তিনি রুয়ান্ডায় টমেটো কিনতে যাওয়ার চেষ্টা করলে, সীমান্ত বন্ধের খবর পান। এখন তাকে গোমা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে মিনোভা গ্রামে পণ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ২০১৫ সালের বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে, প্রতিদিন ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ মানুষ এই সীমান্ত পাড়ি দিতেন। অনেকে ছোট ব্যবসা করতেন। ৪৫ বছর বয়সী ফুরাহা কিজা লেবু বিক্রি করে ছয় সন্তান পালন করেন। সীমান্ত বন্ধ হওয়ায় তার আয় অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, সীমান্ত খোলা থাকলে তারা নিজেরা গিয়ে পণ্য আনতেন। বাজারে বিক্রিও অনেক কমে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলআসছে, ইবোলা মহামারীতে সীমান্ত বন্ধ করা কার্যকর নয় এবং এতে বড় ক্ষতি হতে পারে। স্বাস্থ্য নীতি বিশ্লেষক ড. এলি বাকো বলেন, পর্যবেক্ষণ ও যাত্রীদের স্ক্রিনিং সীমান্ত বন্ধের চেয়ে বেশি কার্যকর। তবে ব্যবসায়ীদের কাছে এই বিতর্ক গৌণ, তাদের প্রশ্ন কবে আবার কাজে ফিরতে পারবেন।