বিশ্বকাপে নতুন বলের কাণ্ডে হিমশিম গোলরক্ষকরা, ৩৩ ম্যাচে ১০০ গোল!
চলতি বিশ্বকাপে গোলের বন্যা থামছে না। অ্যাডিডাসের নতুন ম্যাচ বল 'ট্রিওন্ডা' বাতাসে অপ্রত্যাশিতভাবে পথ পরিবর্তন করছে, যার ফলে গোলরক্ষকদের পক্ষে শট অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রথম রাউন্ডেই ২২ গজের বেশি দূর থেকে অন্তত পাঁচটি উল্লেখযোগ্য গোল হয়েছে।
বিশ্বকাপে এবার গোলের ধুম চলছে। ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম গোল করেন মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনোনেস। এরপর থেকেই একের পর এক বড় ব্যবধানের ম্যাচে গোলের ঝড় চলছে। ১৪ জুন হিউস্টনে নবাগত কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানি ৭-১ গোলে জয়ী হয়, তার চার দিন পর ভ্যাঙ্কুভারে কাতারের বিপক্ষে কানাডা ৬-০ গোলে বিজয়ী হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গোলসংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ অ্যাডিডাসের নতুন ম্যাচ বল 'ট্রিওন্ডা'। এই বল বাতাসে অপ্রত্যাশিতভাবে আচরণ করছে, ফলে অনেক শট গোলরক্ষকদের জন্য অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে দূরপাল্লার গোলগুলোতে। ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ৩০ গজ দূর থেকে এক দারুণ শটে গোল করে আলোচনায় আসেন। প্রথম রাউন্ডেই ২২ গজের বেশি দূর থেকে অন্তত পাঁচটি উল্লেখযোগ্য গোল এসেছে—সুইডেনের ইয়াসিন আয়রি তিউনিসিয়ার বিপক্ষে দুটি (২৪.৮ ও ২৪.৩ গজ), অস্ট্রেলিয়ার কনর মেটকাফ ২৫.৬ গজের শটে, ব্রাজিলের ইসমায়েল সাইবারি ২৪.৭ গজ থেকে গোল করেন।
বিবিসি স্পোর্টের বিশ্লেষণে ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট জানান, নতুন বলের গতি ও নড়াচড়া গোলরক্ষকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কিছু শট প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত ও অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক পল রবিনসনও বলেন, কিছু পরিস্থিতিতে বলের আচরণ স্বাভাবিক গতিপথের বাইরে চলে যাচ্ছে। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকেই ইতিমধ্যে ১০টির বেশি গোল হয়েছে।
তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। সৌদি আরবের গোলরক্ষক মোহাম্মেদ আল ওয়াইস, কেপ ভার্দের ভোজিনহা এবং ইকুয়েডরের এলয় রুম একাধিক ম্যাচে অসাধারণ সেভ করে নিজেদের আলাদা করেছেন—রুমের এক ম্যাচে ১৫টি সেভ ছিল নজরকাড়া। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাত্র ৩৩ ম্যাচেই ১০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে এবারের বিশ্বকাপ আধুনিক যুগের সবচেয়ে দ্রুত গোলবহুল টুর্নামেন্টগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।