ভৈরবে অডিটর ঘুসসহ হাতেনাতে ধরা
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের এক অডিটর ঘুস লেনদেনের সময় ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তার হাতে ধরা পড়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। ইউনিয়ন সচিবের অভিযোগ, অডিটর ২১টি ফাইলের জন্য ২১ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেছিলেন।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অডিটর হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুস গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২১ জুন ২০২৬) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘুসের টাকা লেনদেনের সময় ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা আবদুস সালামের হাতে তিনি টাকাসহ ধরা পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অডিটর হৃদয় মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়। পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএমএইচ আজিমুল হক সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অডিটর হৃদয় মিয়া ঘুস লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ইউএনও বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলায় একটি সভায় অবস্থান করছেন। তিনি ফিরে এলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এদিকে অডিটর হৃদয় মিয়াকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ উঠেছে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিব প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত হৃদয় মিয়া দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। গত সপ্তাহে ইউনিয়ন সচিব প্রদীপ দাস তার সঙ্গে দেখা করে অগ্রিম সহায়তা মঞ্জুরি ফাইল সংক্রান্ত কাজে সহযোগিতার বিনিময়ে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। রোববার সকালে তিনি তাকে ফোন করে উপজেলায় ডেকে আনেন এবং তার হাতে ৭ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গোয়েন্দা কর্মকর্তার মাধ্যমে ধরিয়ে দেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন সচিব প্রদীপ দাস। তিনি বলেন, তার কাছে ২১টি ফাইলের জন্য হৃদয় মিয়া ২১ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেছিলেন। সেই দাবিকৃত ঘুসের অংশ হিসেবে তিনি ২১ জুন সকালে তাকে ৭ হাজার টাকা দিয়েছেন।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সোহেল মিয়া বলেন, তিনি সম্প্রতি এই উপজেলায় যোগদান করেছেন। অডিটরের বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনের অভিযোগটি তিনি শুনেছেন। ইউএনওর সঙ্গে পরামর্শ করে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটরের ঘুস লেনদেনের বিষয়টি তারা অবহিত হয়েছেন এবং তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফাইল সই করার বিনিময়ে টাকা দাবির গুঞ্জন ছিল। অডিটরের এই ধরা পড়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।