গফরগাঁওয়ে টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে চরম বিপর্যয়, কৃষকদের ফসলহানির আশঙ্কা
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় ২১ জুন সকাল থেকে অনবরত বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নের সড়ক, বাজার ও গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। কৃষকদের আমন ধানের বীজতলা ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গফরগাঁও উপজেলায় গত ২১ জুন সকাল থেকে টানা বৃষ্টি পড়ছে। এই দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টির কারণে উপজেলার পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নের সড়ক, বাজার ও গ্রামীণ এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এই সময়ে গ্রামবাংলায় আমন ধানের বীজ রোপণের মৌসুম চলছে। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। চরআলগী ইউনিয়নের চরকামারিয়া গ্রামের কৃষক মো. সুলতান আহমেদ জানান, অনবরত বৃষ্টির কারণে তার বেগুন ও কুমড়ার বাগান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় সবজির গাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গফরগাঁও উপজেলার পাঁচবাগ, টাংগাবর ও রসুলপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সবজিপ্রধান এলাকায় বেগুন, কুমড়া, লাউ, ঝিঙা, মরিচসহ নানা ধরনের সবজি চাষ হয়। টানা বৃষ্টির কারণে এসব সবজিক্ষেতে পানি জমে গাছের গোড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষক মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে তার আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি দ্রুত না নামলে বীজতলার বড় ক্ষতি হতে পারে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আমন চাষের প্রস্তুতি ব্যাহত হতে পারে।
গফরগাঁও পৌরসভায় রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। বাজারের অনেক দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা কম থাকায় দিনভর ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা যায়। রিকশাচালক মো. আজিজুল হক জানান, বৃষ্টির কারণে সারাদিন ঠিকমতো রিকশা চালাতে পারেননি।
বাজারে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে শাকসবজির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে গেলে বাজারে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে।
গফরগাঁও উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শাকুরা নান্মী বলেন, বৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ফসলের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে যেসব জমিতে পানি জমে আছে, সেসব জমির প্রতি কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব।