খামেনির স্মার্তিপত্র বিতর্ক: সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত অস্থায়ী চুক্তি নিয়ে আপত্তি জানালেও শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা এটি সমর্থন করেছেন। সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের রোডম্যাপ নিয়ে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র আলোচকরা সুইজারল্যান্ডে সাক্ষরিত স্মার্তিপত্র (MoU) বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের দলের নেতৃত্বে ছিলেন। তবে তেহরানে চুক্তির বিরোধীরা সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনীহা নিয়ে তর্ক করে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার এক সংক্ষিপ্ত লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, তিনি নীতিগতভাবে ভিন্ন মত পোষণ করতেন, তবে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেশকিয়ান দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি এটি অনুমোদন করেছেন। রবিবার ইরান নিউজ নেটওয়ার্কের (IRINN) পরিচালক পদত্যাগ করেছেন, কারণ স্টেশনটি একজন কট্টরপন্থী আলোচক মাহমুদ নাবাভিয়ানের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করেছিল। নাবাভিয়ান দাবি করেছেন, খামেনি ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির বিরোধী ছিলেন এবং তারা সরাসরি হরমুজ প্রণালীর জন্য টোলিং সিস্টেম ও একক ব্যবস্থাপনা চেয়েছিলেন। এছাড়াও তারা যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ, হিমায়িত সম্পদ উদ্ধার ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উপর কোনো ছাড় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। পেশকিয়ান MoU-কে একটি ঐতিহাসিক দলিল বলে অভিহিত করেছেন যা প্রতিটি হুমকি ও চাপের বিরুদ্ধে জাতীয় মর্যাদা ও স্বাধীনতা প্রতিফলিত করে। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ইরানি জাতির অধিকার ও প্রতিরোধ ফ্রন্ট রক্ষা করবে। কট্টরপন্থী নেতা সাঈদ জালিলি একমাত্র ব্যক্তি যিনি চুক্তির বিরোধী ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কট্টরপন্থী এমপি আমির হোসেইন সাবেতি বলেছেন, পেশকিয়ান, তাঁর মন্ত্রীরা ও গালিবাফ হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন, জালিলি না ভোট দিয়েছেন কারণ তিনি মনে করেন এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের জাতীয় স্বার্ণ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড বলেছে, ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ অব্যাহত রাখায় হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, সুইজারল্যান্ডে প্রথম অগ্রাধিকার হবে চুক্তি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, বিশেষত লেবাননে, এরপরই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের প্রযুক্তিগত আলোচনা হতে পারে।