সব সংবাদ
জাতীয়

তামিলনাড়ুর সামুদ্রিক খাদ্য কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ হারালেন ৭ শ্রমিক

তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার একটি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অন্তত সাত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও ৬৭ জন শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়াম এলাকায় রোববার (২১ জুন) দুপুরে একটি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানার একটি প্রধান নিয়ন্ত্রণ ভালভ থেকে হঠাৎ বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হয়ে উৎপাদন এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কারখানায় শতাধিক শ্রমিক বিভিন্ন বিভাগে কাজ করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই কারখানার ভেতরে তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা চোখ জ্বালা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকের মাথা ঘুরতে শুরু করে এবং কেউ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ, দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অসুস্থ শ্রমিকদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৬৭ জন শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েজনের শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটজনক। ঘটনার পরপরই এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয় এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) ৩০ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিশেষজ্ঞ দল কারখানার বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে গ্যাসের উৎস শনাক্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয় ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় রাজ্য সরকার বহন করবে বলেও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরও শোক প্রকাশ করে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনা আবারও শিল্পাঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অনেক কারখানায় বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হলেও নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয় না। চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।