সব সংবাদ
রাজনীতি

সংসদে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: বিসিএস ভাইভা ১০০ নম্বর, ৪৬৮২২০ শূন্য পদ পূরণ, মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ

জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ সংস্কার, ২৩ হাজার রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার এবং মৎস্য খাতে অভূতপূর্ণ সাফল্যের ঘোষণা এসেছে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের একাদশ দিনে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার, বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মৎস্য খাতে অভাবনীয় সাফল্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডায় অতিবাহিত হয়েছে। সরকারের ইতিবাচক অর্জনগুলো আলোচনার পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, বিসিএস পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে ভাইভার মোট নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ নম্বর বহাল রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে এবং চলমান ৪৭তম বিসিএস থেকেই এই নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন সরকারি অফিসে বর্তমানে সর্বমোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ পূরণে সরকার ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪৫ হাজার ৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩ লাখ ১১০টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলার তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা সুনির্দিষ্ট নিয়ম পর্যালোচনা করে মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছেন।

বিচারব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে দরিদ্র ও অসচ্ছল জনগণকে আইনি সহায়তা দিতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে অধিদপ্তরে উন্নীত করার কথা জানানো হয়েছে। প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্পের আওতায় ৩০০টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সংসদে ঘোষণা করেন যে, দেশে বর্তমানে মাছের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী দেশে বার্ষিক ৩৮.০৯ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ৫১.১১ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে স্বাদু পানিতে উৎপাদিত মাছের পরিমাণ ৪৫.৪৩ লাখ মেট্রিক টন।

অধিবেশনের প্রধান আকর্ষণ ছিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা, যা এক পর্যায়ে বিরোধী দল ও সরকারি দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডায় রূপ নেয়। বিরোধী দলের সদস্যরা বাজেটের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব ঘাটতি এবং ব্যাংক খাতের নিট ঘাটতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক মূল্যায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছিল ৬৭.৮৫ শতাংশে, যা ১৯৭৬-৭৭ সালের পর সর্বনিম্ন।

বাজেট আলোচনায় সরকারি দলের সদস্যরা পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, স্বপ্ন ছাড়া বাস্তবতা হয় না এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে বাজেট পেশ হয়েছে, তা আগামীতে সফলতার মুখ দেখাবে। তারা বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী ও ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।