সব সংবাদ
জাতীয়

ছয় জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা, ২ জুলাই পর্যন্ত সতর্কতা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আগামী সাত দিনে ছয় জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করেছে। রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকা বন্যায় প্লাবিত হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র রোববার একটি বিশেষ বুলেটিন জারি করেছে, যাতে আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি এবং স্বল্পমেয়াদী বন্যার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনে উত্তরাঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তা, ধরলা নদী ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী তীরবর্তী কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। বুলেটিনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের নদীগুলোর পানি আগামী সাত দিনে সামগ্রিকভাবে বাড়তে পারে এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতলও বাড়তে পারে, তবে তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এসব স্থানে গত সাত দিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং আগামী ১০ দিনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটারে পৌঁছাতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি সমতল বেড়েছে এবং আগামী সাত দিন এই উর্ধ্বমুখী প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে নদীগুলো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। একই সময়ে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি সমতলও বেড়েছে এবং এগুলো নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি সমতলও বেড়েছে এবং ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।