সব সংবাদ
রাজনীতি

নেত্রকোনায় খেলাফত আন্দোলনের বিক্ষোভ: সীমান্ত হত্যা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদ

নেত্রকোনা জেলা খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা বন্ধ, আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম রোধের দাবি জানান।

গতকাল শনিবার বিকেলে নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেত্রকোনা জেলা খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে জেলা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও সীমান্তে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী মুহাম্মাদ আবদুর রহীম রুহী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের নিরবতা ও মানবতাকে শেখ হাসিনা ও তার দোসররা দুর্বলতা ভেবেছে। সেই জায়গা থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সাম্প্রতিক সময়ে মাথা চড়া দিয়ে উঠেছে। মাওলানা গাজী আবদুর রহীম আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকার বিগত ১৭ বছর দেশে হাজার হাজার নিরীহ আলেম উলামা ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতাকে হত্যা করেছে, আহত করেছে এবং সারা জীবনের জন্য পঙ্গু করেছে। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেমকে হত্যা করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে চৌদ্দশো ছাত্র জনতাকে হত্যা করেছে। এছাড়াও বিডিআরের ৫৭ জন সেনা অফিসারকে হত্যার মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ফাহিম রহমান খান পাঠান, জেলা খেলাফত আন্দোলনের নেতা মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা আব্দুস সালাম, মরা মোস্তফা জিহাদী, খেলাফত যুব আন্দোলনের জেলা সভাপতি মুফতী মুসা শেখ, খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল মোতালিব খান, ছাত্র আন্দোলন নেত্রকোনা জেলা শাখার নেতা মাওলানা বীন ইয়ামিন রুমী, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামি শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নেতা মারুফ বিল্লাহ। মানববন্ধন চলাকালে গাজী আবদুর রহীম আরও বলেন, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দেশে একটি বিশৃঙ্খলা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য দিয়েছে। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে কোমর সোজা করে পাল্টা জবাব দিতে হবে। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।