ফিফা সভাপতির বিশ্বকাপকে অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ বিশ্বকাপকে ফুটবল অর্থনীতির শক্তিশালী মানদন্ডে পরিণত করতে চাইছেন। আসন্ন বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ও আর্থিক প্যাকেজের পরিমাণ রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের প্রায় দ্বিগুণ।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ফুটবলের ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনা করে বিশ্বকাপকে অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে দল সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হচ্ছে এবং ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বাড়িয়ে ১০৪টি করা হয়েছে। এই বর্ধিত আয়োজনের ফলে ফিফা প্রাইজমানিতে বড় ধরনের লাফ দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ও আর্থিক প্যাকেজের পরিমাণ রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলার! এর মধ্যে মূল পারফরম্যান্স-ভিত্তিক প্রাইজমানি হিসেবে দলগুলোর মাঝে ভাগ করে দেওয়া হবে ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি পুল ছিল ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের, ২০২৬ বিশ্বকাপের মোট আর্থিক প্যাকেজ ৮৭১ মিলিয়ন ডলার; ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে! ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৫১৫ কোটি টাকারও বেশি। এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া দল পাবে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রানার্সআপ পাবে ৩৩ মিলিয়ন, তৃতীয় স্থান পাবে ২৯ মিলিয়ন, আর চতুর্থস্থান পাওয়া দলটি পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার। গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া দলের প্রাইজমানি অবশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপের মতো এবারও অংশগ্রহণকারী দল প্রথম পর্বে বাদ পড়লে পাচ্ছে ৯ মিলিয়ন ডলার। সেরা ৩২ এর দলগুলো পাবে ১১ মিলিয়ন, শেষ ১৬তে উঠলে ১৫ মিলিয়ন, আর কোয়ার্টার ফাইনালের দলগুলো পাবে ১৯ মিলিয়ন ডলার করে। এছাড়াও, প্রতিটি দল কোয়ালিফিকেশন ও প্রস্তুতি ফান্ড হিসেবে অতিরিক্ত ১২.৫ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিতভাবে পাচ্ছে, যার ফলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোরও নূন্যতম আয় হচ্ছে ২১.৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এই বাণিজ্যিক চক্রে ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ছিল ফিফার! এর মধ্যে শুধু বিশ্বকাপের চলতি মূল আয়োজন থেকেই লক্ষ্য ৯ বিলিয়ন ডলার আয় করার, বাকি ৪ বিলিয়ন ডলার দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়ার সময় বিভিন্ন খাত থেকে। এখন দেখা যাচ্ছে যে আয় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কম-বেশি যাই হোক না কেন প্রাইজমানি কিন্তু এক বিলিয়ন ডলারও নয়! সম্প্রচার স্বত্ব, বৈশ্বিক স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং বাণিজ্যিক খাত থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় হচ্ছে। ফুটবলার ও ফেডারেশনগুলোর বাড়তি ভ্রমণ খরচ এবং বর্ধিত ম্যাচ সূচির ধকল সামলানোর পুরস্কার হিসেবেই ফিফা এবার এই বিশাল আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হবে।