সব সংবাদ
জাতীয়

শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন

রাজধানীর রামপুরার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। গত ১২ জুন তার বাড়ির কাছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন তিনি। দীর্ঘ এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

রাজধানীর রামপুরার বিখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ মারা গেছেন। গত ১২ জুন জুমার নামাজের পর রামপুরা ব্রিজের পাশে একরামুন্নেছা বালক উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে পলাশ তার বাসভবনের নিচে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেয়ে থাকা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ছোঁড়ে। হামলাকারীরা পরপর দুই রাউন্ড গুলি চালায়, যার মধ্যে একটি গুলি সরাসরি তার মাথা ভেদ করে যায়। এরপর তারা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে তিনি মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, নিহত পলাশ রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকার বাসিন্দা ইউনুস খানের ছেলে। তিনি যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। ২০০২ সালের ২৯ তারিখে মিজানকে গুলি করে হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। উচ্চ আদালত তাঁর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর মাত্র এক মাস আগেই তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।

পুলিশের খাতায় কাইল্লা পলাশ ছিলেন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। কারাগারে বন্দি থাকলেও তিনি রামপুরা এলাকার অন্ধকার জগতের নিয়ন্ত্রক ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আসামি হিসেবে কারাগারে বন্দি থাকতেই তিনি সন্তানের বাবা হন। ২০১২ সালের অক্টোবরে মুন্সিগঞ্জ হাসপাতালে তার মেয়ে খাদিজার জন্ম হয়। তিনি কখনোই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। রামপুরার বাসায় প্রতি মাসে দু-তিনবার আসা-যাওয়া করতেন। রোগী সেজে কারাগার থেকে বিভিন্ন হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছেন।

কারা এবং কেন তার ওপর হামলা করেছে সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরাই পলাশকে গুলি করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘটনার পেছনে স্থানীয় সন্ত্রাসী কাইল্যা মাসুদের নাম উঠে এসেছে। এ ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে রামপুরা থানা পুলিশ ও ডিবির একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।