সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

ধর্মীয় পরিচয়ই আগে, পরীক্ষা নয়': আজমিরে বোরকা পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের লড়াই

রাজস্থানের আজমিরে সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় এক মুসলিম ছাত্রীকে বোরকা খুলতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এনটিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষা দেওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সে বোরকা পরেই পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি পায়।

২১ জুন ২০২৬ তারিখে ভারতের রাজস্থানের আজমিরে সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট-ইউজি) পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেন কুলসুম বানো নামের এক মুসলিম ছাত্রী। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে পৌঁছানোর সাথে সাথেই নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বোরকা এবং দোপাট্টা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতে বলেন। এটি তার কাছে অন্যায় ও বৈষম্যমূলক মনে হয়। কুলসুম বলেন, গত ৩ মে যখন তিনি এই পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তখনও তারা বোরকা পরেই পরীক্ষা দিয়েছেন। যদি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে কেন্দ্রের কর্মীরা তাদের আটকাচ্ছে কেন? তার পিতা মোহাম্মদ আলিম এনটিএ-এর নির্দেশিকার ১৮ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে স্পষ্ট বলা আছে যে পরীক্ষার্থীরা ধর্মীয় পোশাক পরে অংশ নিতে পারবেন। তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন একজন নারী কর্মীকে ডেকে আলাদা ঘরে তল্লাশি করা হোক। কিন্তু কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ প্রথমে তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এই ঘটনায় উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। অবশেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে এবং এনটিএ-এর নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কুলসুমকে সসম্মানে বোরকা পরেই পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। আজমিরের সার্কেল অফিসার শিবম জোশী পরে জানান, পোশাক বিধি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষা কেন্দ্রের কিছু কর্মীর মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, যা পরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। এনটিএ-এর স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী হিজাব, বোরকা বা পাগড়ির মতো ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষা দেওয়া যায়, তবে সেক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীকে কিছুটা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তল্লাশির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। কুলসুমের এই সাহসী অবস্থান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।