সব সংবাদ
খেলা

ফ্যাক্টরি শ্রমিক থেকে বিশ্বকাপের নায়ক: উনদাভের অসাধারণ যাত্রা

জার্মানির হয়ে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নকআউট নিশ্চিত করলেন উনদাভ। একসময় ভোর চারটায় উঠে কারখানায় কাজ করতেন এই ফুটবলার, ১৭ বছর বয়সে ব্রেমেন ক্লাব তাঁকে উচ্চতার কারণে বাদ দিয়েছিল।

ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠতে হতো। আট ঘণ্টা লেজার মেশিন চালাতেন কারখানায়। অনুশীলন শেষে রাত আটটায় বাড়ি ফিরতেন। এই ছিল উনদাভের ১৭ বছর বয়সের একেকটি দিনের গল্প। সেই ছেলেটিই আজ ১২ বছর পর বিশ্বকাপে জার্মানির নকআউটে ওঠার নায়ক।

শনিবার রাতে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জার্মানি ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকায় মাঠে নামলেন উনদাভ। ৬৮তম মিনিটে নাদিম আমিরির ক্রস থেকে বাঁ পায়ের ভলিতে সমতা আনেন, তারপর যোগ করা সময়ে বক্সের কিনারে বল পেয়ে শক্তিশালী শটে জাল কাঁপিয়ে ২-১ করেন। তাঁর জোড়া গোলে জার্মানি প্রায় এক দশক পর বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল।

উনদাভ জার্মানির প্রথম ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষেও গোল করেছিলেন। দুই ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৬৬ সালের পর এক আসরে বদলি খেলোয়াড়দের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

কয়েক বছর আগেও এই উনদাভের পরিচয় ছিল অন্য রকম। সপ্তাহে ১২০ পাউন্ড মজুরিতে কাজ করতেন একটি কারখানায়। জার্মানির ছোট শহর আখিমে কুর্দি-ইয়াজিদি পরিবারে জন্ম নেওয়া উনদাভের মা-বাবা তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্ত থেকে জার্মানিতে অভিবাসী হয়ে এসেছিলেন।

২০০৭ সালে ভেরডার ব্রেমেনের একাডেমিতে যোগ দিলেও ২০১২ সালে তাঁকে বাদ দেওয়া হয় উচ্চতা কমের কারণে। এরপর জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাবে খেলতে খেলতে কারখানায় কাজ নেন। ২০২০ সালে বেলজিয়ামের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট-জিলোয়ায় যোগ দিলেন। প্রথম মৌসুমেই ২৯ ম্যাচে ১৮ গোল করে দলকে শীর্ষ লিগে তুলেন। পরের বছর ৩৯ ম্যাচে ২৬ গোল করে লিগের সেরা গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নেন।

ব্রাইটন ও স্টুটগার্টে খেলে প্রতিষ্ঠিত হন বুন্দেসলিগার অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১৯ গোল করেন, হ্যারি কেইনের পর দ্বিতীয়। তবে জাতীয় দলের যাত্রা মসৃণ ছিল না। গত মার্চে ঘানার বিপক্ষে বদলি নেমে গোল করলেও প্রথম একাদশে খেলার ইচ্ছা জানিয়ে কোচের সমালোচনায় পড়েন। এখন কোচই বলছেন, তাঁকে প্রথম একাদশে রাখতে পারেন।

২৯ বছর বয়সী উনদাভের জন্মদিন ১৯ জুলাই, যেদিন বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ বছর বয়সে যাঁকে বলা হয়েছিল উচ্চতা যথেষ্ট নয়, সেই ছেলে এখন বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারেন।