কালীগঞ্জে শিশু হত্যা: ক্রাইম পেট্রোলে আসক্ত কিশোরীর বিরুদ্ধে চার্জ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১৪ বছরের এক কিশোরী ২ বছর ৬ মাসের শিশু আরিশাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে ওই কিশোরী জানায়, সে এই হত্যা করেছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, কিশোরীটি মায়ের আদরে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ এবং 'ক্রাইম পেট্রোল' টিভি ধারাবাহিকে আসক্ত হওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকায় শনিবার (২০ জুন ২০২৬) বিকালে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আরিশা আক্তার জান্নাত রাজবাড়ী জেলার রামকান্তপুর এলাকার আলহাজ শেখ ও গোলাপি বেগমের মেয়ে। আলহাজ শেখ চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে কালীগঞ্জে ভাড়ায় থাকতেন এবং সেভেন রিংস সিমেন্ট কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
অভিযুক্ত কিশোরী বাড়ির মালিকের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ ও নিহত শিশুর বাবার বরাতে জানা গেছে, দুই পরিবারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। অভিযুক্ত কিশোরীর মা ছোট্ট আরিশাকে বিশেষভাবে পছন্দ করতেন এবং আদর করতেন।
শনিবার বিকালে বাড়ির উঠানে দুজন একসঙ্গে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর আরিশাকে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে গোসল খানায় ঢুকে বালতির পানিতে শিশুটিকে ডুবন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার বাবা-মা। পরে তারা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিশার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর অভিযুক্ত কিশোরী হাসপাতালে গিয়ে আরিশার অবস্থা জানতে চায়। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সে সরাসরি থানায় গিয়ে পুলিশকে বলে, সে আরিশাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে।
পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী জানায়, তার মা মৃত আরিশাকে খুবই আদর করতেন — এই বিষয়টি সে মেনে নিতে পারেনি। এছাড়া সে দীর্ঘদিন ধরে 'ক্রাইম পেট্রোল'-এর মতো অপরাধভিত্তিক টেলিভিশন ধারাবাহিকে আসক্ত ছিল। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই সিরিলটি তাকে এই ঘটনায় প্ররোচিত করেছে। এছাড়া অভিযুক্ত কিশোরী মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ নয় বলেও জানা গেছে।
রোববার (২১ জুন ২০২৬) দুপুরে শিশু হত্যায় অভিযুক্ত কিশোরীকে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করে থানা পুলিশ। আদালতের বিচারক তাকে হাজতবাসে পাঠান। এদিন সকালে নিহত শিশুর বাবা কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ও পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত কিশোরীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ হত্যার পেছনে আরও কোনো কারণ আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।