সব সংবাদ
জাতীয়

তিস্তায় পানি বাড়ছে, উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

উজানে ভারতে ভারি বৃষ্টি ও দেশের অভ্যন্তরে অতি ভারি বৃষ্টির কারণে রংপুর অঞ্চলের তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার কাছে পৌঁছে গেছে। গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকিতে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেছে।

উজানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারি বৃষ্টি এবং দেশের অভ্যন্তরে অতি ভারি বৃষ্টির ফলে রংপুর অঞ্চলের প্রধান নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত ১৭ দশমিক শূন্য এক মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

রোববার সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুরে এই পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ পয়েন্টে তিস্তার বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিং ভেঙে গেছে। সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে নির্মিত ৯০০ মিটার সেতু রক্ষা বাঁধের ১৫০ মিটারের বেশি অংশ ভেঙে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক সেতু হয়ে অন্তত ৩০-৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করে।

তিস্তা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে সেতু রক্ষা বাঁধে ধ্বসের কারণে তিন গ্রামের ১ হাজারের বেশি পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় কৃষক মকবুল হোসেন জানান, উজানের পানির প্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে এবার বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। আমন ধানের চারা তৈরির জন্য প্রস্তুত করা বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, গত বছর ভাঙনের সময় এলজিইডিকে ব্লক দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা শোনেননি।

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, নদী তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।