বর্ষায় ঢাকায় জলাবদ্ধতা: ১৬ বছরেও সমাধান হয়নি
ঢাকায় গত ১৬ বছরে হাজার কোটি টাকা খরচ করেও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান হয়নি। আসন্ন বর্ষায় দক্ষিণ ঢাকায় মাত্র ৩টি পাম্প স্টেশন থাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আষাঢ়-শ্রাবণ মাস এলেই ঢাকাবাসীর ভোগান্তি শুরু হয়। এবারও বর্ষা শুরুর আগেই সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, পাঁচ স্তরের সংকট একসঙ্গে ঢাকার বুকে জেঁকে বসেছে। প্রথমত, সড়কের ক্যাচপিটের ছিদ্র আবর্জনায় বন্ধ; দ্বিতীয়ত, ড্রেনগুলো পলি ও কাদায় ভরা; তৃতীয়ত, অবৈধ দখলে হারিয়ে গেছে প্রধান খালগুলো; চতুর্থত, পাম্পিং স্টেশনগুলো অকেজো; এবং পঞ্চমত, চারপাশের নদনদীগুলো ভরাট হয়ে পানি ধারণের সক্ষমতা হারিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আয়তন অনুযায়ী যেখানে অন্তত ১০টি পানি নিষ্কাশন পাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন, সেখানে আছে মাত্র ৩টি। এই ৩টির মধ্যে হাতিরঝিলের গুরুত্বপূর্ণ পাম্পিং স্টেশনটি বর্তমানে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। দুই সিটি এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য। এসব প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি ড্রেন, নালা ও খালে গিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিচ্ছে। ডিএসসিসি ২৯টি হটস্পট এলাকা চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিম মালিবাগ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার, মুগদা মেডিকেল কলেজ, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাপলা চত্বর, পল্টন, ধানমন্ডি-২৭, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা। দুই সিটি কর্পোরেশন স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানালেও, সমস্যার গভীরে হাত না দিয়ে বারবার উপরিভাগে প্রলেপ দেওয়ার কারণেই প্রতি বর্ষায় ঢাকা ফিরে যায় তার চেনা ভোগান্তিতে।