সব সংবাদ
জাতীয়

দৌলতপুরে অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধে পাউবোর থানায় অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন ক্যানাল ও সরকারি জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে অবৈধ ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সড়কের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি শক্তিশালী চক্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানাধীন ক্যানাল, সরকারি খাল ও জমি থেকে দীর্ঘকাল ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি রাতে প্রায় ৯টার পর শুরু হয় এই অবৈধ কার্যক্রম, যা ভোর পর্যন্ত চলমান থাকে। স্কেভেটর এবং শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলির মাধ্যমে দ্রুতগতিতে মাটি কেটে বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সরেজমিনে ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহিরমাদী টোলপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাউবোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যানাল থেকে গভীর গর্ত করে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এই ক্যানালটি বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি প্রবেশকারী এবং এর পাশে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও পাকা সংযোগ সড়ক। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে বন্যা ও বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ও সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পত্তি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছে। তাদের দাবি, প্রতি রাতে প্রায় এক হাজার ট্রলি মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এ কাজে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে ওই চক্রটি। গত বৃহস্পতিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও শনিবার পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পাউবো কতৃপক্ষ ও ভূক্তভোগী স্থানীয়রা। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেছেন, তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন, তবে মাটি কাটা চক্রগুলো বেশিরভাগ সময় রাতের বেলায় কাজ করে বলে ধরতে পারা যায় না। তবে ইউএনওর এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা এবং প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা যদি বৃষ্টির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সরকারি সম্পদ রক্ষা করবে কে? সচেতন মহল মনে করছে, পাউবোর ক্যানাল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন শুধু পরিবেশগত ক্ষতিই নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। তাই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী মহল।